ভার্চুয়াল ট্রাই-অন কেনার আগেই দেখিয়ে দেয় কোনো পোশাক আপনার নিজের ছবিতে কেমন লাগবে। ছবি আপলোড করুন, একটা টপ, প্যান্ট বা ড্রেস বেছে নিন, তারপর স্লাইডারে আগে-পরে মিলিয়ে দেখুন। কয়েক সেকেন্ড লাগে, মাপ লাগে না।
সর্বশেষ যাচাই 2026-09-12
AI ভার্চুয়াল ট্রাই-অন কীভাবে কাজ করে?
একটি ছবি আপলোড করুন
সামনে থেকে তোলা, মোটামুটি আলো আছে এমন ছবিই যথেষ্ট। প্যান্ট আর ড্রেসের জন্য ফুল বডি ছবি ভালো, টপের জন্য কোমর পর্যন্ত ছবি হলেই চলে।
পোশাক বেছে নিন
টপ, বটম আর ড্রেসের মধ্যে থেকে বেছে নিন, অথবা কোনো অনলাইন শপের প্রোডাক্ট ছবি ইমপোর্ট করুন। AI সেই ছবি থেকে কাট, রং আর কাপড়ের ধরন পড়ে নেয়।
টেনে তুলনা করুন
আগে আর পরের ছবি একই ফটোর ওপরে বসে। হ্যান্ডেলটা ডানে-বাঁয়ে টানুন, ঠিক কী বদলাল আর কী বদলাল না, নিজেই দেখুন।
কী কী ট্রাই করা যায়?
একটামাত্র ছবিতে 30টা জিনিস
নিচের প্রতিটা ফলাফল ওই একই ছবি, শুধু একটা জিনিস বদলানো। যেকোনো কার্ডে ট্যাপ করলে নিচে আসল ছবিটা দেখতে পাবেন, আর ছবির টিপস ও আরও উদাহরণের জন্য যেকোনো ভাগ খুলে দেখুন।
টপ
আসল ছবি দেখতে যেকোনো কার্ডে ট্যাপ করুন
বটম
ড্রেস
চশমা
অ্যাকসেসরিজ
ট্রাই-অন শুধু পোশাকটাই বদলায় কেন?
বেশিরভাগ ট্রাই-অন টুল পুরো ছবিটাই নতুন করে আঁকে আর আপনাকে একটু অন্যরকম একজন মানুষ ফিরিয়ে দেয়। তাতে উদ্দেশ্যটাই মাটি। আপনি জানতে চান জ্যাকেটটা আপনার গায়ে কেমন লাগবে, আপনার মতো দেখতে কারও গায়ে নয়।
Visio AI শুধু পোশাকটা বদলায়, বাকিটা ছুঁয়েও দেখে না: মুখ, চুল, গায়ের রং, দাঁড়ানোর ধরন, ব্যাকগ্রাউন্ড আর আলো। সেজন্যই স্লাইডারটা কাজের। যখন শুধু কাপড়টা নড়ে, তখনই তুলনাটা সৎ।
যেকোনো শরীর আর যেকোনো ছবিতে কাজ করে কি?
এই পাতার ত্রিশটা ফলাফলই একটামাত্র ছবি থেকে বানানো: একই মানুষ, একই ভঙ্গি, একই আলো, প্রতিটাতে ঠিক একটা জিনিস বদলানো। সেজন্যই এখানে আপনি ব্লেজার আর টার্টলনেকের তফাতটা দেখছেন, দুটো আলাদা ফটোশুটের তফাত নয়। আপনার নিজের ছবিতেও ঠিক তাই হয়। AI জিনিসটা ছবির শরীরে বসায়, কোনো স্টক ছবি টেনে ওপরে সেঁটে দেয় না।
ভালো আলো আর সাদামাটা ব্যাকগ্রাউন্ড সাহায্য করে। ঘিঞ্জি দৃশ্য বা গাঢ় ছায়ায় পোশাকের কিনারা পড়া কঠিন হয়ে যায়, মানুষের চোখেও যেমন হতো।
এর ভরসায় কেনাকাটা করা যায় কি?
কোন রং, কোন কাট বা কতটা লম্বা আপনাকে মানাবে, তার জন্য হ্যাঁ। সাইজ M কোমরে আঁটবে কি না, তার জন্য না: টুলটা একটা ছবি দেখে, ফিতে ধরে মাপে না। একে ট্রায়াল রুমের আয়না ভাবুন, সাইজের লেবেল নয়।
এর আসল জায়গা হলো সিদ্ধান্তের আগের সিদ্ধান্ত। র্যাপ ড্রেস না সোজা কাটের ড্রেস? ক্যামেল কোট না কালোটা? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর একটা ছবি ভালোই দেয়, আর কিছু অর্ডার বা রিটার্ন করার আগেই দেয়।
ক্যাশ অন ডেলিভারি আর রিটার্নের হিসাব
বাংলাদেশে অনলাইনে কেনাকাটার বড় অংশ এখনো ক্যাশ অন ডেলিভারিতে হয়, আর ভুল জিনিস ফেরত পাঠানো মানে কুরিয়ার, ফোনে তর্ক আর কয়েক দিনের অপেক্ষা। সেজন্যই এখানে ভুল কেনার দাম বেশি, আর অর্ডারের আগে দেখে নেওয়ার দামও বেশি।
কার্টে পাঁচটা একরকম কুর্তি বা তিনটা প্রায় একই রকম ব্যাগ থাকলে আগে ছবিতে দেখে নিন কোন দুটো সত্যিই আপনার গায়ে দাঁড়ায়, তারপর শুধু ওই দুটোই অর্ডার করুন। এক মিনিটের কাজ, আর সেটা কুরিয়ারের এক সপ্তাহ বাঁচায়।
প্রতিটা ভাগের নিজস্ব পাতা
প্রতিটা ভাগের আলাদা পাতা আছে, ছবির টিপস আর আরও উদাহরণসহ: টপ (শার্ট, সোয়েটার, ব্লাউজ, ব্লেজার, জ্যাকেট), বটম (জিন্স, ট্রাউজার, স্কার্ট, কার্গো), ড্রেস (রোজকার, অফিস আর সন্ধ্যার), চশমা (পাওয়ারের ফ্রেম আর সানগ্লাস) আর অ্যাকসেসরিজ (হ্যাট, স্কার্ফ, গয়না আর ব্যাগ)।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
ভার্চুয়াল ট্রাই-অন কি ফ্রি?
সবাই একটা ফ্রি ট্রায়াল পান। iOS বা Android-এ Visio AI অ্যাপ ইনস্টল করুন, ট্রায়াল শুরু করুন, আর ট্রায়াল চলাকালীন নিজের ছবিতে টপ, বটম আর ড্রেস কোনো টাকা না দিয়েই ট্রাই করুন। ট্রায়াল শেষ হলে ভার্চুয়াল ট্রাই-অন Visio AI সাবস্ক্রিপশনের অংশ, যার মধ্যে হেয়ারস্টাইল, চুলের রং আর ফটো স্টুডিওও আছে।
ফুল বডি ছবি কি লাগবেই?
ড্রেস আর প্যান্টের জন্য ফুল বডি বা হাঁটু পর্যন্ত ছবি সবচেয়ে ভালো ফল দেয়, কারণ পোশাকটার বসার জন্য একটা শরীর দরকার। টপের জন্য কোমর পর্যন্ত ছবিই যথেষ্ট। সবচেয়ে জরুরি হলো ছবিটা সামনে থেকে তোলা আর আলো সমান, খুব কড়া নয়, খুব কমও নয়।
অনলাইন শপের পোশাক ট্রাই করা যায়?
যায়। প্রোডাক্টের ছবিটা সেভ করে পোশাক হিসেবে ইমপোর্ট করুন। AI সেই ছবি থেকে কাট, রং আর কাপড় পড়ে নিয়ে ঠিক সেই পোশাকটাই আপনাকে পরিয়ে দেয়। শুধু পোশাকের ছবি বা ম্যানিকুইনের গায়ে পরানো ছবিতে সবচেয়ে পরিষ্কার ফল আসে, মডেলের গায়ে পরানো ছবিতেও চলে।
এটা কি আমার মুখ বা শরীর বদলে দেবে?
না। বদলটা শুধু পোশাকেই সীমাবদ্ধ। আপনার মুখ, চুল, ত্বক, পোজ আর ব্যাকগ্রাউন্ড আসল ছবিতে যেমন ছিল তেমনই থাকে। সেজন্যই আগে-পরের তুলনার একটা মানে দাঁড়ায়: যা বদলেছে তা শুধু পোশাক, বাকি সবটাই আপনি। মুখ বা গড়ন একটুও বদলে গেলে সেটা আর নিজের ছবিতে ট্রাই-অন থাকে না, কল্পনা হয়ে যায়।
এটা কি আমার সাইজ বলে দেয়?
না। ভার্চুয়াল ট্রাই-অন দেখায় পোশাকটা আপনার ছবিতে কেমন লাগছে, আপনার মাপ নিতে পারে না। স্টাইল আর রঙের মধ্যে বেছে নিতে এটা ব্যবহার করুন, তারপর সাইজের জন্য দোকানের সাইজ চার্ট যেমন সবসময় দেখেন তেমনই দেখুন। যে দোকানের সাইজ চার্ট, সেই দোকানের মাপই শেষ কথা।
কী কী ট্রাই করা যায়?
শার্ট, সোয়েটার, ব্লাউজ, ব্লেজার আর জ্যাকেটের মতো টপ। জিন্স, ট্রাউজার, স্কার্ট আর কার্গোর মতো বটম। যেকোনো লম্বার ড্রেস। পাওয়ারের চশমার ফ্রেম আর সানগ্লাস। আর অ্যাকসেসরিজ: হ্যাট, ক্যাপ, স্কার্ফ, নেকলেস আর ব্যাগ। এই পাতার পাঁচ ভাগে ভাগ করা ত্রিশটা জিনিস শুধু স্লাইডারের উদাহরণ। অ্যাপে Daraz-এর প্রোডাক্ট ছবি থেকে ফেসবুক পেজের স্ক্রিনশট, এমনকি নিজের আলমারির ছবি পর্যন্ত যেকোনো কিছু ইমপোর্ট করা যায়।
চশমা আর সানগ্লাস ট্রাই করা যায়?
যায়। ফ্রেমের প্রোডাক্ট ছবিটা আপলোড করুন বা নমুনা থেকে বেছে নিন, AI সেটা আপনার মুখের মাপে নাকের ওপর আর কানের পেছনে বসিয়ে দেয়, পাওয়ারের ফ্রেমে স্বচ্ছ কাচ আর সানগ্লাসে কালো কাচসহ। এখানে শুধু ফ্রেমটা দেখতে কেমন লাগছে সেটাই দেখানো হয়। পাওয়ার, দুই চোখের মাঝের দূরত্ব আর লেন্সের সেন্টার মাপেন চশমার দোকানের বিশেষজ্ঞ, আর সেটা কোনো অ্যাপ করতে পারে না।
হ্যাট, ব্যাগ বা গয়না যোগ করা যায়?
যায়। অ্যাকসেসরিজ আপনার গায়ে যা আছে তার ওপরেই যোগ হয়: হ্যাট চুলের ওপর বসে, স্কার্ফ গলায় বাঁধা পড়ে, নেকলেস গলার নিচে থাকে, ক্রসবডির স্ট্র্যাপ শরীরের ওপর দিয়ে যায় আর টোট ব্যাগ কাঁধে ঝোলে। আপনার ভঙ্গি আর পোশাক যেমন ছিল তেমনই থাকে।

